বৃহস্পতিবার, ৩০ Jun ২০২২, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

রামগড়ে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মিথ্যা ও সাজানো নাটক: সংবাদ সম্মেলনে দাবী পরিবারের

রামগড়ে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মিথ্যা ও সাজানো নাটক: সংবাদ সম্মেলনে দাবী পরিবারের

রামগড় প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ির রামগড়ে পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে উপজেলার থানাচন্দ্র পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: বেলায়েত হোসেন এর বিরুদ্ধে মামলা করে ছাত্রীর অভিবাবক। এই অভিযোগ কে মিথ্যা এবং সাজানো নাটক দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে অভিযুক্ত শিক্ষকের পরিবার। তাঁরা দাবী করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রানী দেবী এবং তার সহযোগী রুপম ত্রিপুরা ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে এ মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক নাটক মঞ্চায়ীত করেছে।

আজ রবিবার (২২মে) রামগড় লেকভিউ রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী আয়েশা বেগম ও পিতা নুরুল হুদা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আয়েশা বেগম জানান, থানাচন্দ্র পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রানী দেবীর সাথে তার স্বামীর ব্যক্তিগত দ্বন্ধ রয়েছে। ২০১৯ সালে ইন্দ্রানী দেবী ভৃগুরাম কার্বারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালীন বেলায়েত হোসেনের ভাগিনা মোহাম্মদ তারেক কে হাত বেঁধে বেদম প্রহার করে। তখন বেলায়েত হোসেন বিভিন্ন পর্যায়ে এ নির্যাতনের প্রতিবাদ জানালে ইন্দ্রানী দেবীকে শাস্তিমুলক ভাবে জালিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। এ ঘটনার জন্য ইন্দ্রানী দেবী সবসময় বেলায়েত হোসেনকে দায়ী করে আসতো ।

ঘটনার কিছুদিন পর ইন্দ্রানী দেবী বদলি হয়ে বেলায়েত হোসেনের বর্তমান কর্মস্থল থানাচন্দ্র পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন। বিদ্যালয়ের কাজকর্মে উদাসীনতা এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে প্রায় সময় তার স্বামী এবং প্রধান শিক্ষকের মাঝে বাগবিতণ্ডা হয়। বিষয়গুলো তার স্বামী রামগড় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের অনেকজনকে অবহিত করেন এবং সমস্যায় পড়তে পারেন বলে বিভিন্ন জায়গায় আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, রুপম ত্রিপুরা নামের স্থানীয় এক বখাটে প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রানী দেবীর প্রভাব খাঁটিয়ে সব সময় বিনা অনুমতিতে ১০-১২জন নিয়ে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করতো এবং তাদের মোবাইল চার্জ দিতো। কিছুদিন আগে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে বেলায়েত হোসেন ও রুপম ত্রিপুরার মাঝে তুমুল বাগবিতণ্ডা হয়। রুপম ত্রিপুরা তখন বেলায়েত হোসেন কে দেখে নিবেন বলে হুমকি দেন । তার কিছুদিন পর রুপম ত্রিপুরাকে বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে নিয়োগ দিতে চাইলে বেলায়েত হোসেন এর প্রতিবাদ জানায়। এতে রুপম ত্রিপুরা তার ওপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন।

সংবাদ সম্মেলনে বেলায়েত হোসেন এর পিতা নুরুল হুদা দাবী করেন, ব্যক্তিগত দ্বন্ধের জেরে নিরীহ এক উপজাতি মেয়েকে দিয়ে তার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। এর জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রানী দেবী এবং রুপম ত্রিপুরাকে দায়ী করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো দাবী করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা ফুলবানু ত্রিপুরা অভিযুক্ত শিক্ষক বেলায়েত হোসেন কে মোবাইল ফোনে জানান, তিনি পরিস্থিতির স্বীকার। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা না করলে রুপম ত্রিপুরা তাদের পরিবারকে সমাজচ্যুত করবেন বলে জানান। ভয়ে তিনি মামলা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন বেলায়েত হোসেনের পিতা নুরুল হুদা, স্ত্রী আয়েশা বেগম, ভাই মামুন হোসাইন ও তার দুই কন্যা।

থানাচন্দ্র পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি নুরুল আমীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান, বিষয়টি তিনি জানতেন না। শিক্ষার্থীর পরিবার এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তাকে জানায় নি। ঘটনাটি তার কাছে মিথ্যা এবং সাজানো নাটক মনে হয়েছে।

ভাল লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন........

Leave a Reply

Your email address will not be published.




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত... © কর্তৃপক্ষদ্বারা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত |২০২০|
Design & Developed BY CHT Technology