বৃহস্পতিবার, ১৩ Jun ২০২৪, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

খাগড়াছড়ির ২৯৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

খাগড়াছড়ির ২৯৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

বিশেষ প্রতিনিধি: এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় চলতি দায়িত্ব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে খাগড়াছড়ি জেলার ২৯৩ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। প্রকল্পভূক্ত শিক্ষক ও জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের মামলার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে পদোন্নতি প্রদানে বার বার হোঁচট খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।  ফলে শ্রেণি পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম যেমন মারাত্বকভাবে ব্যাহত হচ্ছে তেমনি ২০ বছর ২৫ বছর একই পদ থেকে  অবসর নেয়ায় শিক্ষকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

সরজমিনে দেখা যায়, খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২ বছেরর বেশি সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারি শিক্ষক মোহাম্মদ আলী আকবর আজাদ। তিনি বলেন, ‘উপজেলায় ৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক আছে মাত্র ১২টি বিদ্যালয়ে। বাকি স্কুলগুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। সহকারি শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। বিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষকের পক্ষে ৬টি ক্লাসরুমে পাঠদান করা সম্ভব নয়। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হওয়ার কারণে পাঠদান ব্যাহত হয়।’

হাফছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শান্তনা মারমা বলেন, ‘আমরা এখানে ৪ জন সহকারি শিক্ষক আছি। এরমধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষককে বিভিন্ন সময় দাপ্তরিক কাজে বাইরে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের পাঠদানে সমস্যা হয়। যারা পদোন্নতির যোগ্য তাদেরকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিলে সংকট দূর হবে।’

খাগড়াছড়ির ৫শ’ ৯৩ টি সরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ২ শ’ ৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে সেখানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির যোগ্য সহকারি শিক্ষকদের পদোন্নতি দিলে নতুন পদ সৃষ্টির পাশাপাশি সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক শিক্ষক ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত সহকারি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরও পদোন্নতি না পাওয়ায় হতাশ।

খাগড়াছড়ির বদুংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সজল কুমার ঘর্জা বলেন, ‘দীর্ঘ ২৫ বছরের মতো চাকরিকাল অতিবাহিত করেছি। পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় অনেক শিক্ষক পায়ে হেঁটে দায়িত্ব পালন করছে কিন্তু আমরা প্রতীক্ষিত পদোন্নতি পাচ্ছি না। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি খুবই জরুরি।’

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কার্তিক ত্রিপুরা বলেন, ‘গত ১৪ বছর ধরে খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক সহকারি শিক্ষকদের পদোন্নতি বন্ধ। অনেক শিক্ষক পদোন্নতি না পেয়েই চাকরি জীবন থেকে অবসরে চলে গেছেন। অনেক সহকারি শিক্ষকের চাকরি বয়স ২৫ বছর হয়ে গেছে অথচ তারা এখনো পদোন্নতি পাননি। এতে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের মামলার কারণে কয়েকটি উপজেলায় পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে তবে জেলার লক্ষীছড়ি, রামগড়, গুইমারা ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় কোন মামলা নেই। সেখানে ৭৭ জন সহকারি শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির যোগ্য। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর চাইলেই এসব শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে পারে।’

বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হওয়ার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মন্ডল। তিনি বলেন, ‘জেলায় ২শ’ ৯৩টি পদ শূন্য আছে। ইতোমধ্যে যারা পদোন্নতির যোগ্য তাদের কাগজপত্র গত বছরের ডিসেম্বরে আমরা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। অধিদপ্তরে যাচাই বাছাই চলছে। আমরা প্রত্যাশা করছি চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারি শিক্ষকেরা পদোন্নতি পাবে।’

ভাল লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন........

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত... © কর্তৃপক্ষদ্বারা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত |২০২০|
Design & Developed BY CHT Technology